বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় একটি পুরনো শালিসি সমঝোতা এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে চরম অনিশ্চয়তা ও হয়রানির মুখে পড়েছেন দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ মতিয়ার রহমান মতি। চেক-স্ট্যাম্প ও অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত জটিলতায় তাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের শেষদিকে কৃষ্ণচন্দ্রপুর-বাঙ্গালপাড়া গ্রামের এক গৃহবধূর পারিবারিক সহিংসতাকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি স্থানীয় মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয়। সমঝোতার অংশ হিসেবে নগদ অর্থ প্রদানের পাশাপাশি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের কয়েকটি চেক এবং তিনটি ১০০ টাকার স্ট্যাম্প জিম্মা হিসেবে সাবেক মেম্বার মতির নিকট সংরক্ষিত রাখা হয়। পরবর্তীতে চুক্তির শর্তানুযায়ী বাদীপক্ষকে কয়েক দফায় ৫ লাখ টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং বাকি টাকা মামলা সমাপ্তির পর পরিশোধের কথা থাকে।
তবে মূল সংকট তৈরি হয় সাবেক এই ইউপি সদস্যের নিজস্ব পারিবারিক টানাপোড়েন শুরু হওয়ার পর। মতিয়ার রহমানের অভিযোগ, তার বৈবাহিক কলহের সুযোগ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বিভিন্ন সময়ে বাড়ি নির্মাণের কথা বলে বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা ও গবাদিপশু হাতিয়ে নিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, নতুন গাড়ি কেনার জন্য ঘরে রাখা ১৫ লাখ টাকাও কৌশলে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তার দাবি।
বর্তমানে তার স্ত্রী বাপের বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে তাকে নতুন নতুন মামলায় ফাঁসানো ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিজের ওপর আনীত চাপ ও হুমকির বিষয়ে মতিয়ার রহমান মতি জানান, তাকে সামাজিকভাবে অপদস্থ করতে একটি বিশেষ মহল এই ষড়যন্ত্রে ইন্ধন দিচ্ছে। তবে শালিস সংক্রান্ত চেক, স্ট্যাম্প এবং আর্থিক লেনদেনের যাবতীয় কাগজপত্র ও ভিডিও প্রমাণ তার কাছে সুরক্ষিত আছে। সঠিক বিচার পেতে তিনি যেকোনো সময় এসব তথ্যপ্রমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দেবেন।
মন্তব্য করুন