আগামীকাল ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি, স্বাভাবিক থাকবে সরকারি কাজ
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে দিনটি সাধারণ ছুটি না হওয়ায় অন্যান্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি দপ্তরে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু থাকবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই ছুটির আওতাভুক্ত থাকবে। ছুটির পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথারীতি নিয়মিত ক্লাস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে।
তবে কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে প্রধানের ‘সংরক্ষিত ছুটি’ ব্যবহার করে বৃহস্পতিবার বন্ধ রাখতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শুক্র ও শনিবারসহ টানা চার দিনের ছুটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
অন্যদিকে, ব্যাংক, বিমা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি কার্যালয়ে আগামীকাল স্বাভাবিক কর্মদিবসের নিয়ম অনুসরণ করে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ইসলামিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল ও বরকতময় নাম গাউসুল আজম মহিউদ্দীন হজরত শেখ আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লহি আলাইহি। তিনি ছিলেন একাধারে বিশ্ববরণ্যে সুফি সাধক, প্রখ্যাত আলেম, আধ্যাত্মিক শিক্ষক এবং কাদেরিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিবছর হিজরি রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে তাঁর ওফাত দিবস স্মরণে ‘পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ পালিত হয়।
ফারসি ভাষায় ‘ইয়াজদাহম’ শব্দের অর্থ ‘এগারো’ এবং ‘ফাতেহা’ মানে দোয়া বা মুনাজাত। হিজরি রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে এই ঐতিহাসিক দিবসটি পালিত হয় বলেই একে বলা হয় ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’।
হজরত শেখ আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লহি আলাইহি ৪৭১ হিজরিতে (১০৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) ইরানের জিলান নগরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অগাধ জ্ঞান ও অলৌকিক প্রতিভার অধিকারী। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি বাগদাদ গমন করেন এবং হাদিস, তাফসির, ফিকহসহ ইসলামের মৌলিক শাস্ত্রসমূহে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
পরবর্তী জীবনে তিনি আত্মশুদ্ধি ও দ্বীনের দাওয়াতে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর সুমধুর উপদেশ, সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরন ও মহান নৈতিকতার প্রভাবে অগণিত অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করেন এবং হাজার হাজার পথহারা মানুষ সত্য ও তওবার পথে ফিরে আসেন।
৫৬১ হিজরির (১১৬৬ খ্রিষ্টাব্দ) ১১ রবিউস সানি এই মহান সাধক বাগদাদে ওফাত লাভ করেন। তাঁর ওফাতের পর থেকে বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহ এই দিনটিতে তাঁর রূহের মাগফিরাত ও সাওয়াব পৌঁছানোর (ঈসালে সাওয়াব) উদ্দেশ্যে জিকির-আজকার, মিলাদ-মাহফিল ও ফাতেহা পাঠের আয়োজন করে আসছে।
১. ঈসালে সাওয়াব ও রুহের মাগফিরাত কামনা: এই দিনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো হজরত গাউসুল আজম রহমাতুল্লহি আলাইহি উনার রুহের প্রতি ছওয়াব রেসানি করা। এ উপলক্ষে কোরআন তিলওয়াত, নফল নামাজ, জিকির এবং দান-ছদকা করা হয়। ২. জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা: বড়পীর হজরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লহি আলাইহি উনার জীবন ছিল শতভাগ পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ-ভিত্তিক। এই দিনে তাঁর জীবন, জ্ঞান ও দ্বীন প্রচারের সংগ্রামকে স্মরণ করে মুসলিম সমাজকে ঈমানি চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা হয়। ৩. সত্যবাদিতার চর্চা: শৈশবে ডাকাতদের সামনে সত্য কথা বলে পুরো ডাকাত দলকে হেদায়েতের পথে নিয়ে আসার ঘটনা তাঁর সত্যবাদিতার অনন্য দৃষ্টান্ত। ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের আলোচনা থেকে মুমিনরা সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও তাকওয়ার শিক্ষা গ্রহণ করেন।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, ভ্রাতৃত্ব এবং পথহারা মানুষকে ঈমানের আলোয় ফিরিয়ে আনার বার্তা দেয়। বর্তমান সমাজে যখন নৈতিক অবক্ষয় বেড়েছে, তখন গাউসুল আজম রহমাতুল্লহি আলাইহি উনার সত্যবাদিতা, ধৈর্য, খোদাভীতি ও সৃষ্টির সেবার আদর্শ অনুসরণ করাই হতে পারে মুক্তির পথ।
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম স্মরণের মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের বড়পীর হজরত শেখ আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লহি আলাইহি উনার আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
মন্তব্য করুন