চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম তাঁর নিজ কার্যালয়ে প্রায় এক দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। টানা অবরুদ্ধ থাকার পর তিনি নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে বলেন, তাঁর তীব্র মাথাব্যথা করছে এবং এই মুহূর্তে কিছুটা বিশ্রামের প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজ দপ্তরে অবস্থানকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য সার্বিক পরিবেশকে অস্বস্তিকর হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সেখানকার পরিস্থিতি ভালো নয় এবং রাতে কেউই ঘুমাতে পারেননি। এ সময় তিনি আরও জানান, সার্বিক পরিস্থিতিতে তাঁর দুজন সহকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁদের গভীর রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চাইবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি পুরোপুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। তবে উদ্ভূত পুরো বিষয়টি তিনি ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করেছেন এবং তাঁরাই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ঘটনার পেছনের চিত্র:
পূর্ববর্তী উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান এবং তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।
জানা গেছে, দায়িত্ব নেওয়ার ২১ দিন পর অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম তালা ভেঙে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেছিলেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় সেখানে জড়ো হন এবং মূল ফটকটি আবার অবরুদ্ধ করে দেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই নিয়োগ বাতিল ও পদচ্যুত উপাচার্যকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও এই আন্দোলনের সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন।
মন্তব্য করুন