বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা ও দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে পঞ্চগড়ে সরকারি উদ্যোগে সোলার পাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
শনিবার সকালে পঞ্চগড় অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকা পরিদর্শনকালে চীন, সিঙ্গাপুর ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং দেশীয় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রথম ধাপে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনীতে সরকারি সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টসহ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকাতেও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পঞ্চগড়ের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বেশ উপযোগী। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
এ ছাড়া দেবীগঞ্জে সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক এগ্রোজোন ও সবুজায়ন গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মানুষের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণকে কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।
এদিকে অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন শেষে চীনের জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান পেং ওয়াং বলেন, পঞ্চগড়ের এ অঞ্চলের জমি প্রাকৃতিকভাবে বেশ ভালো এবং বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। তিনি নিজ দেশে ফিরে পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিষয়টি আলোচনা করে এখানে বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার কথা জানান।
পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মাহাবুব হোসেন, জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান পেং ওয়াং, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহাসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া গেলে ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
মন্তব্য করুন