মাত্র চার হাজার টাকার লোভে শিশুদের জীবন বিপন্ন করে ইয়াবা পাচারের এক নির্মম ও অভিনব কৌশল উন্মোচন করেছে র্যাব-৭। ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুটি নিষ্পাপ শিশুর পেটকে মাধ্যম বানিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ইয়াবার বড় একটি চালান। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; র্যাবের অভিযানে ধরা পড়েছে চক্রটি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার গভীর রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার তৈলারদ্বীপ সেতু সংলগ্ন বাঁশখালী-আনোয়ারা-চট্টগ্রাম সড়কে চেকপোস্ট বসায় র্যাব-৭-এর একটি দল। সেখানে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে শারমিন আকতার ওরফে ইসমত আরা (৪০) নামের এক নারীকে আটক করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দুই শিশুকেও নিজেদের হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী শিশুদের পেটে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করলে তাদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুদের পাকস্থলীতে ক্ষতিকর বস্তুর উপস্থিতি নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা।
এরপর চমেক চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে দুদিন ধরে পয়োনিষ্কাশনের মাধ্যমে দুই শিশুর পেট থেকে একে একে বের করে আনা হয় স্কচটেপে মোড়ানো ১৩৩টি পোটলা। এর মধ্যে ৯ বছরের শিশুর পেট থেকে ৬৭টি এবং ১২ বছরের শিশুর পেট থেকে ৬৬টি পোটলা উদ্ধার করা হয়। পোটলাগুলো থেকে মোট ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা বের করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।
র্যাব জানায়, উখিয়া থেকে সংগ্রহ করা এসব ইয়াবা চট্টগ্রামে সরবরাহের উদ্দেশ্যে শিশুদের পেটে খাইয়ে বহন করা হচ্ছিল। পৌঁছানোর পর তাদের আরও টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, একই দুই শিশুকে ব্যবহার করে ইতিপূর্বেও দুবার সফলভাবে ইয়াবার চালান পার করেছিল সংঘবদ্ধ এই চক্রটি।
চিকিৎসকদের মতে, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণঘাতী এক প্রক্রিয়া। পাকস্থলীতে ক্যাপসুল বা পোটলা সামান্য ফুটো হয়ে মাদক রক্তে মিশে গেলে তাৎক্ষণিক বিষক্রিয়ায় শিশুদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত।
ঘটনায় জড়িত নারী, উদ্ধারকৃত মাদক ও শিশুদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে শিশুদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা এই মূল পাচারচক্রের পেছনের কারিগরদের শনাক্ত করতে গভীর তদন্ত শুরু করেছে র্যাব।
মন্তব্য করুন