শনিবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ-১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার এলাকায় ১৭ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থান নেয় বিজিবি। সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে অনুপ্রবেশের সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির তৎপরতার প্রশংসা করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনভর ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন এবং বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ছিলেন।
কলমুডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ও ট্রাক্টরচালক মাহবুব আলম বলেন, রাত পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৭ জনকে ভারতের দিকে নিয়ে যান। তাদের অনেকেই ফিরে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছিলেন এবং কান্নাকাটি করছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুম জানান, ঘটনাটি জানার পর সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়। মানবিক কারণে শুরুতে তাদের শূন্যরেখায় অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হলেও সন্ধ্যার পর নোম্যান্সল্যান্ডে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাতের দিকে বিএসএফ সীমান্তের আলোকসজ্জা বন্ধ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত পুশইনের প্রচেষ্টা থেকে সরে এসে ওই ব্যক্তিদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে বিজিবির নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবির দৃঢ় অবস্থান স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।
মন্তব্য করুন