নরসিংদীর শিবপুরে শীতকালীন সবজির চারা বিক্রি করে ঘুরে গেছে বহু কৃষকের ভাগ্যের চাকা। সবজির চারা উৎপাদন ও বিপণন কেন্দ্র হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের কুন্দারপাড়া এলাকা। বর্তমানে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে ১৫০ জন কৃষক বাণিজ্যিকভাবে এই চারা উৎপাদন করছেন, যার বার্ষিক বাজারমূল্য অন্তত দেড় কোটি টাকা।
একসময় স্থানীয় চাষিরা মুন্সীগঞ্জ থেকে চারা এনে জমিতে রোপণ করতেন। প্রায় ২০ বছর আগে নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে কুন্দারপাড়ার কৃষকেরা নিজস্ব উদ্যোগে চারা উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে চলতি আষাঢ় মাস থেকে শুরু করে আশ্বিন মাসজুড়ে পলিথিন সেড তৈরি করে দফায় দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি চলে।
বীজতলায় মূলত ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মরিচ ও টমেটোর বীজ বপন করা হয়। এক মাস পরিচর্যার পর মানভেদে প্রতিটি গুণগত মানের ফুলকপির চারা ৮০ পয়সা থেকে ১ টাকা এবং বাঁধাকপির চারা ৬০ থেকে ৮০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন কুন্দারপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে পলিথিনে মোড়ানো সারি সারি বীজতলা। কৃষকেরা চারা তোলা, আগাছা পরিষ্কার এবং পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয় শওকত আলী নার্সারির স্বত্বাধিকারী জানান, ১৪ বছর ধরে দেড় বিঘা জমিতে ব্যবসা করে তিনি বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন। অপর চাষি ফজলুল হক জানান, প্রতি বিঘা জমিতে এক মাসে অন্তত এক লাখ টাকা খরচে প্রায় তিন লাখ চারা উৎপাদন করা সম্ভব, যা থেকে সব খরচ বাদ দিয়েও দুই লাখ টাকার বেশি নিট মুনাফা থাকে।
চারাগুলোর গুণগত মান ভালো হওয়ায় শুধু নরসিংদী নয়; কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চাষিরা নিয়মিত এখানে চারা কিনতে আসছেন।
শিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন সাদেক জানান, কুন্দারপাড়া এলাকায় ৮ হেক্টর জমিতে আধুনিক প্রযুক্তিতে সবজির চারা উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে কৃষকদের চারা মানসম্মত রাখা, নতুন নতুন জাতের সংযোজন এবং আগাম সবজি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায় দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন