নিজের গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক একাডেমিক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের পর থেমে থাকেননি দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আশিক আহম্মেদ। অনলাইন ঘেঁটে যুক্ত হন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায়। আর মেধা, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে অর্জন করে নেন জোড়া আন্তর্জাতিক সাফল্য- পেয়েছেন ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ এবং ৩০ শতাংশ স্কলারশিপ। অদম্য এই কিশোরের এমন গৌরবোজ্জ্বল অর্জন এখন পুরো জেলায় অনুপ্রেরণার জোয়ার ভাসাচ্ছে।
আশিক আহম্মেদ জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের কাঁচাকুল গ্রামের সন্তান। তার বাবা মো. মিজানুর রহমান ও মা আকলিমা খাতুন। সে বর্তমানে জয়পুরহাটের ঐতিহ্যবাহী কালাই সরকারি ময়েন উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। (পূর্বে বগুড়ার কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়ার কারণে আন্তর্জাতিক সনদে আগের প্রতিষ্ঠানের নাম নিবন্ধিত রয়েছে)।
আশিকের গবেষণার মূল বিষয় ছিল, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব: উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও শিক্ষার ভবিষ্যৎ’। গবেষণায় স্থান পায়- শিক্ষাব্যবস্থায় এআই (AI)-এর ব্যবহার, এর সুফল, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে এর বৈপ্লবিক প্রভাব।
জানা যায়, ‘আইসিএনিউজ গ্লোবাল রিসার্চ’ (ICANEWS) আয়োজিত ৩য় আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৩৪টি দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতা করে ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ অর্জন করে আশিক।
৯ অক্টোবর তাকে এ সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়। এছাড়া যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘ইমার্স এডুকেশন’ আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় অর্জন করেন ‘মেরিট’ পুরস্কার ও ৩০ শতাংশ স্কলারশিপ, যার ফলে বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের অধীনে গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে তা প্রকাশের দুয়ার খুলে গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ আশিককে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানান।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আশিক আহম্মেদ কালবেলাকে জানায়, “গবেষণাপত্রটি প্রথমে Preprints.org-এ প্রকাশ করি। পরে প্রতিযোগিতার খোঁজ পেয়ে জমা দিই। বিদ্যালয় পর্যায়েই এমন স্বীকৃতি পাওয়া আমার জন্য বড় আনন্দের ও প্রেষণার। অদম্য ইচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো প্রান্ত থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করা সম্ভব। এই সাফল্য আমার মতো অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও বিজ্ঞান ও গবেষণায় উৎসাহিত করবে বলে বিশ্বাস করি।
কালাই সরকারি ময়েন উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বকুল বলেন, আশিকের এই অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের। তার সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক দিকনির্দেশনা ও একাগ্রতা থাকলে বিশ্বমঞ্চে জয়ী হওয়া অসম্ভব নয়।
গ্রামবাসী ও স্থানীয় সমাজকর্মী এম রাসেল আহমেদ কালবেলাকে বলেন, গ্রামের একটি ছেলে স্কুলজীবনেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন অভূতপূর্ব গৌরব অর্জন করবে- তা আমাদের ভাবনার বাইরে ছিল। আশিকের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও স্কলারশিপ অর্জনে কাঁচাকুল গ্রামসহ পুরো জয়পুরহাটবাসী আজ গর্বিত। সে প্রমাণ করে দিয়েছে, গ্রামের প্রান্তিক এলাকা থেকেও ইচ্ছা ও মেধা থাকলে বিশ্ব জয় করা সম্ভব। আশিকের এ সাফল্য আমাদের এলাকার অন্যান্য তরুণ ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং গবেষণাধর্মী কাজে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ করবে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও গবেষণাধর্মী মানসিকতা বিকাশ ঘটানো জরুরি। আশিকের আন্তর্জাতিক সাফল্য আমাদের অন্য সব শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশাল অনুপ্রেরণা। বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির দিকে তারা আরও আগ্রহী হবে।
মন্তব্য করুন